Saturday, August 2, 2014

আপ.কো হামারি কসম লওট আইয়ে

আসলে এ শহর হল বেবাক রাংতা-মোড়া এক উলিঝুলি পাগল।নিছক পাগল কি নিছক শহর নয় হে,এ এক বেশুমার রঙ্গ।সেদিন অনেক হেঁটেছি চৌরঙ্গী,পার্ক স্ট্রীট এ।অবশেষে সন্ধ্যে এল।নিউ মার্কেট এর উলটো দিকে তখন ভীষণ সবুজ ময়দান,রাস্তায় শান্‌দার ভিড়... আর আকাশে হয়তো মেঘ ছিল...

আমি নিস্পৃহ মাতালের মত বৃষ্টি খুঁজেছি আজ,তারপর ক্লান্ত গলির মোড়ে ফিরে এসেছি অনিবার্য্যতায়.. এতো তুমি জানোই,কত বছরের হাওয়ায় হাওয়ায় আমি খুঁজে ফিরেছি তোমার উপত্যকা......তোমার কফি-কাপ এ লেগে থাকা তোমার ঠোঁটের উষ্ণতা...তোমার অন্ধকার নিবিড়তম...বহু বহু দিনের পিছন থেকে সেই সব গলে যাওয়া সময়ের হাড়-মজ্জা ছুঁয়ে দিল আমার সোনাঝুরি বন...

এসব অহেতুক মূর্চ্ছনা সমূহে বিভ্রম ঢেকে দেয় আমার...সোডিয়াম ভেপারের হলুদ আলোয় তোমার দীর্ঘদেহী ছায়া সিগারেট ধরিয়ে বাঁক ঘোরে...আমিও বৈধ চিনির স্বাদ জিভে নিয়ে পাশ ফিরি ঘুমের একান্তে...
 — at আপ কো হামারি কসম লওট আইয়ে...... 

শীত বলেছে যাবো যাবো

December 18,2013


আমাদের মফঃস্বলে এখন প্রগাঢ় শীত। দীঘির ধারে ভাঙা নীলকুঠিতে মিলিয়ে যায় রোদ।ধুলোয় লুটোপুটি খাওয়া কুকুরছানারা এবার খুঁজে নেবে সান্ধ্য আশ্রয়।

যে পথ দিয়ে রোজ আমি ঘরে ফিরি, সে পথের ধুলোয় ধুলোয় লেগে থাকে উষ্ণতার জন্যে অভিমান।বাড়ি ফিরে ধোঁয়ার মেঘ জমা কফি-কাপ হাতে বারান্দায় দাঁড়াই । বিল্টুদাদের পাঁচিলে একটা বিষণ্ণ দোয়েল , এই সন্ধ্যের মত সাদা-কালো রঙের লেজ নাচিয়ে শিস দেয়। হুহু করে বয়ে যাওয়া নিশ্চুপ হাওয়ারা কত সব গল্প বলে।

যে সব গল্পে আমাদের প্রান্তিক মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে লাল সাইকেলগুলো অপেক্ষা করে আছে অনন্তকাল। জলকন্যারা ফিরে যাচ্ছে স্কুলের পোশাকে । জানলার বাইরে পাহারা দেয় চাঁদের শিল্যুয়েট ।

যে দিন আর কখনো ফিরবে না তার জন্যে এ দুঃখ। পানশালায় গিটার বেজে ওঠে। ম্যায়ফিঁল ম্যায়ফিঁল অ্যাঁয় শমা। যে গলি পর্যন্ত তোমার লোভ আমাকে তাড়িয়ে এনেছে, তা থেকে ফিরবার পথ আর নেই। নিয়ত মেমননের সমাধি ঘিরে পাখিদের উড়ান সাঙ্গ হয়।
হে বিষাদ , হে শীতের দিন, এভাবে একা ফেলে চলে যেও না।
 — at আপ কো হামারি কসম লওট আইয়ে...

স্মৃতিবিথার

December 13, 2013


মাঝে মাঝে কি সব অদ্ভুত স্মৃতি ফিরে ফিরে আসে। আজ সন্ধ্যের বাসে বাড়ি ফিরে আসছিলাম। ফাঁকা বাস, ফাঁকা রাস্তা । খোলা রাস্তায় বয়ে যাচ্ছে হু হু হাওয়া। এয়ারপোর্টের লাইটগুলো জ্বলছিল, নিভছিল। আর কি অসাধারণ বাস, পুরনো হিন্দি সিনেমার গান বাজাচ্ছিল মৃদু স্বরে।
হঠাৎ একটা গান বাজতে শুরু করল " চল , চল , মেরে হাতি , ও মেরে সাথি,...... চল ইয়ার ,ধাক্কা মার"।

এই একটা গান আমাকে সেই কোন ছোটোবেলায় টেনে নিয়ে গেলো। আমাদের সেই ছোটবেলায় সাকুল্যে দুটো টিভি চ্যানেল ছিল। শনিবার করে সন্ধ্যে বেলায় হিন্দি সিনেমা হতো । আর তার পূর্বাভাস পাওয়া যেত সেদিনের খবরের কাগজে।

আমি তখন শুভো দাদার কাছে আঁকা শিখতাম, ইস্কুলেও যাই না। আর বাবার কাছে শুভো দাদা বাংলা পড়তো। উচ্চ-মাধ্যমিকের বাংলা। শুভোদাদার হরেক রকম গল্পের বই ছিল। শুভো দাদা তেল রঙে নানারকম ছবি আঁকত। সেই লোভে লোভে আমিও বাবার সঙ্গে যেতাম।

শনিবার করে শুভো দাদা আসতো আমাদের বাড়ী। আমায় আঁকা শেখাতে। রোজ খানিকটা আঁকার পরে আমাকে "সিনারি" আঁকতে দিতেই হতো। সন্ধ্যের সিনারি। তাতে সুজ্জি ডুবে যেতো, পাখিরা ঘরে ফিরত, বুড়ো বট গাছের কোটোরে উঁকি দিত পেঁচা আর পেঁচার ছানা।আর তরমুজের খেতে গোটা সংসার নিয়ে নেমে আসতো খরগোশেরা।

এরম এক শনিবার বাড়িতে মা ছিলেন না, আর কাগজে দিয়েছিলো সেই সন্ধ্যায় "হাতি মেরে সাথি" সিনেমা টা আছে। সারা সন্ধ্যে আমরা খুব সাহস করে টিভি খুলে অপেক্ষা করেছিলাম ।( কারণ তখন হিন্দি সিনেমা দেখা ইন্ডিয়ান পেনাল কোডে অপরাধপ্রতিম ছিল)।

কিন্তু সেদিন কেন কে জানে সিনেমাটা দেয়নি টিভিতে। বহুদিন আকুলতা নিয়ে অপেক্ষা করেছিলাম সিনেমাটা দেখার জন্যে। যখন দেখেছিলাম বড্ড বোকা বোকা লেগেছিল । আমি অনেকদিন আর ছবি আঁকি না। শুভোদাদার কাছে আঁকা শেখার কথাও ভুলেই গেছিলাম। মনে পড়লো কালো আর্টপেপারে সাদা রঙে অসম্ভব সুন্দর একটা মেয়ের পোর্ট্রেট এঁকেছিল শুভোদাদা। তারপর আঁকা ছেড়ে দিয়ে ব্যাঙ্গালোরে ফিজিওথেরাপি পড়তে চলে গেছিলো।

এখন শুভোদাদার মস্ত চেম্বার। আজকে সন্ধ্যেয় হঠাৎ ইচ্ছে করল জানতে , রঙ দিয়ে ম্যাজিক দেখানো শুভোদাদা অবনীন্দ্রনাথ , গগনেন্দ্রনাথের ছবি আঁকার গল্প গুলো ভুলে গ্যাছে কিনা...

আমাদের কত সব খুচরো চোদ্দ-আনা যে এভাবে পড়ে হারিয়ে যায়... কে তার হিসেব রাখে...
 — at এই হেমন্তের যত অশ্রুজল , আমি এবার নামিয়ে দেবো তোমার পায়...

কোজাগর

সব থেকে সুন্দর আর পরিষ্কার জোচ্ছনা হয় আশ্বিন মাসে। চরাচর ভাসানো জ্যোচ্ছনা।

আজ মায়ের সঙ্গে নেমন্তন্ন খেতে গেছিলাম,খেয়ে দেয়ে গলি-রাস্তা হেঁটে এলাম বাড়িতে।কোন রকমে চাঁদের আলো একটুখানি এসে পড়েছে গলির মধ্যে। দমদমের ঘরবাড়ি গুলো বড় নিষ্ঠুর, চাঁদকে আড়াল করে আকাশ ছুঁয়েছে।ছাতিম ফুলের গন্ধ পেতে গেলে যেতে হবে সেই কদমতলা ব্যাঙ্কের কাছে।

হাঁটতে হাঁটতে কত সব পুরনো কথা মনে পড়ল।আমাদের বারাসাতের বাড়িতে থাকতে প্রতি লক্ষ্মী পুজোতে পাপুদের বাড়িতে আমাদের নেমন্তন্ন হত। আমি , মা , পিসি, পাশের বাড়ির কাকিমা নেমন্তন্ন খেয়ে ফিরতাম। খিচুড়ী, লাবড়া , পায়েস, আলোচাল, কাটা ফলের গন্ধের সাথে মিশে থাকা ধুপ-ধুনো আর গাঁদা ফুলের গন্ধ আমাদের অনেকক্ষণ আসতো পিছু পিছু ।

হঠাৎ করে লোডশেডিং হয়ে গেলে দেখতাম লক্ষ্মীর পা আর ধানের ছড়ার পাশে লুটিয়ে আছে জ্যোচ্ছনা।বাধানো ইঁটের রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতাম যখন , খালি মাঠের উপর ঘন হয়ে কুয়াশা নামতো, দুধের মত জোচ্ছনার ঢল, আর আমাদের ছাতিম গাছটা গন্ধ উজাড় করে দিত।

দূর থেকে ভেসে আসা উলু আর শঙ্খ ধ্বনি মনে হত যেন স্বপ্নের এক্সটেনশন। ছাদের পাশের নারকেলগাছের পাতা গুলো রুপোর মত ঝকঝক করত, ডানা ঝাপ্টে উড়ে এসে বসতো মস্ত বড় সাদা লক্ষ্মী পেঁচা।

আর আমি দিব্যি জানতাম , এই জ্যোচ্ছনা জমেই পরী হয়। আমি বাড়িতে নেই,কিন্তু কোজাগরীর আলোয় তৈরী হওয়া পরীটা নিশ্চয়ই খেলে বেড়াচ্ছে আমার প্রিয় ছাদটায়।
— playing কোজাগরী... at অলীক পেন্সিলে...

জুলাইয়ের রেনকোট

september 27, 2013

আজ কোটরা গেছিলাম।সকালে প্রচন্ড রোদ, ছিলো ভয়াবহ মন-খারাপ।দত্তপুকুর লোকালে মারামারি সঙ্গী করে নেমেছি খাঁ খাঁ প্ল্যাটফর্মে। তারপর লাল্টুদার গাড়ি চড়ে সোজা গন্তব্যে।

চোখ পুড়ে যাচ্ছিলো , মন ও অবশ । তিনটের সময় যখন বেরিয়েছি , দেখি আকাশে নীল মেঘ, তার উপর দিয়ে ধূসর রঙের তুলোর মত মেঘের ছানা। একটা অদ্ভুত হাওয়া দিচ্ছিলো। রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজের টুকরো, শালপাতা, বিস্কুটের খালি প্যাকেট উড়েযাচ্ছিলো সেই হাওয়ায়। কুন্ডলি পাকিয়ে উড়ছিল রাস্তার ধারের ধুলোরা।

সামনেই একটা বন্ধ সাইকেলের দোকান।অল্প একটু বাঁধানো বসার জায়গা।দুটো ছোট্ট ছাগলছানা শিং বাঁধিয়ে লড়াই লড়াই খেলছে।

রাস্তায় পায়চারি করছিলাম।ছোট্ট ছোট্ট একদল স্কুলের ছেলে আমার পাশে দাঁড়িয়ে পড়ল। খুব উৎসাহী কণ্ঠে বলল, দেখ দেখ কেমন উড়ছে। আমিও আকাশে তাকিয়ে দেখি একঝাঁক শামখোল পাখি হাওয়ার বিপরীতে কেমন চক্র কেটে উড়ে যাচ্ছে, পিছিয়ে পড়া একেকটা পাখি প্রাণপণে ডানা আপসে উড়বার চেষ্টা করছে। চোখের বাইরে ওরা চলে যেতে একটা বাচ্চাকে ভারি ইর্‌রিলেভ্যান্ট প্রশ্ন করলাম...
-"আজ কত তারিখ রে?"
একটা ছেলে বলল -"২৭ শে সেপ্টেম্বর ,কাল ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন ছিল না?"

গাড়ি এসে গেলে ফিরতে শুরু করলাম,তখনো বৃষ্টি নামেনি, ঘন হয়ে মেঘের ছায়া এসে পড়েছে পাম্প-হাউস, লাল শাকের খেত, বন বাদাড়, পথের পাশের পুকুরে।
ভিজে হাওয়ায় একটা অদ্ভুত সরসর শব্দ হচ্ছিলো ধানের খেতে, যেন কাঁচের কাজ করা গুজরাটি ঘাগরা পরে ছুটে আসছে কোনো সুন্দরী মেয়ে। দুধারে ধান খেত, গাড়ি থামিয়ে বেশ কিছুক্ষণ শুনলাম ধানক্ষেতের গান।

তারপর বেশ ভিজে বাড়ি ফিরেছি,আসার পথে স্টেশনে দেখে এলাম মামন আর ওর বন্ধুরা কামদুনি-পার্ক্সট্রীট-বরুন বিশ্বাস হত্যার প্রতিবাদে সভা করছে।রাস্তায় আবার একটা ইর্‌রিলেভ্যান্ট কথা মনে হল, যদি বৃষ্টি নামে, ওরা ভিজে যাবে, পথনাটিকা করতে পারবে না।

এখন মোটামুটি রাত।আর কিছু নয় ভগবান, আজ রাতে ঘুমটুকু অন্ততঃ দিও, যেন কোন ইর্‌রিলেভ্যান্ট কথা মনে না পড়ে।
 — at অলীকপেন্সিলে...