Saturday, August 2, 2014

আপ.কো হামারি কসম লওট আইয়ে

আসলে এ শহর হল বেবাক রাংতা-মোড়া এক উলিঝুলি পাগল।নিছক পাগল কি নিছক শহর নয় হে,এ এক বেশুমার রঙ্গ।সেদিন অনেক হেঁটেছি চৌরঙ্গী,পার্ক স্ট্রীট এ।অবশেষে সন্ধ্যে এল।নিউ মার্কেট এর উলটো দিকে তখন ভীষণ সবুজ ময়দান,রাস্তায় শান্‌দার ভিড়... আর আকাশে হয়তো মেঘ ছিল...

আমি নিস্পৃহ মাতালের মত বৃষ্টি খুঁজেছি আজ,তারপর ক্লান্ত গলির মোড়ে ফিরে এসেছি অনিবার্য্যতায়.. এতো তুমি জানোই,কত বছরের হাওয়ায় হাওয়ায় আমি খুঁজে ফিরেছি তোমার উপত্যকা......তোমার কফি-কাপ এ লেগে থাকা তোমার ঠোঁটের উষ্ণতা...তোমার অন্ধকার নিবিড়তম...বহু বহু দিনের পিছন থেকে সেই সব গলে যাওয়া সময়ের হাড়-মজ্জা ছুঁয়ে দিল আমার সোনাঝুরি বন...

এসব অহেতুক মূর্চ্ছনা সমূহে বিভ্রম ঢেকে দেয় আমার...সোডিয়াম ভেপারের হলুদ আলোয় তোমার দীর্ঘদেহী ছায়া সিগারেট ধরিয়ে বাঁক ঘোরে...আমিও বৈধ চিনির স্বাদ জিভে নিয়ে পাশ ফিরি ঘুমের একান্তে...
 — at আপ কো হামারি কসম লওট আইয়ে...... 

শীত বলেছে যাবো যাবো

December 18,2013


আমাদের মফঃস্বলে এখন প্রগাঢ় শীত। দীঘির ধারে ভাঙা নীলকুঠিতে মিলিয়ে যায় রোদ।ধুলোয় লুটোপুটি খাওয়া কুকুরছানারা এবার খুঁজে নেবে সান্ধ্য আশ্রয়।

যে পথ দিয়ে রোজ আমি ঘরে ফিরি, সে পথের ধুলোয় ধুলোয় লেগে থাকে উষ্ণতার জন্যে অভিমান।বাড়ি ফিরে ধোঁয়ার মেঘ জমা কফি-কাপ হাতে বারান্দায় দাঁড়াই । বিল্টুদাদের পাঁচিলে একটা বিষণ্ণ দোয়েল , এই সন্ধ্যের মত সাদা-কালো রঙের লেজ নাচিয়ে শিস দেয়। হুহু করে বয়ে যাওয়া নিশ্চুপ হাওয়ারা কত সব গল্প বলে।

যে সব গল্পে আমাদের প্রান্তিক মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে লাল সাইকেলগুলো অপেক্ষা করে আছে অনন্তকাল। জলকন্যারা ফিরে যাচ্ছে স্কুলের পোশাকে । জানলার বাইরে পাহারা দেয় চাঁদের শিল্যুয়েট ।

যে দিন আর কখনো ফিরবে না তার জন্যে এ দুঃখ। পানশালায় গিটার বেজে ওঠে। ম্যায়ফিঁল ম্যায়ফিঁল অ্যাঁয় শমা। যে গলি পর্যন্ত তোমার লোভ আমাকে তাড়িয়ে এনেছে, তা থেকে ফিরবার পথ আর নেই। নিয়ত মেমননের সমাধি ঘিরে পাখিদের উড়ান সাঙ্গ হয়।
হে বিষাদ , হে শীতের দিন, এভাবে একা ফেলে চলে যেও না।
 — at আপ কো হামারি কসম লওট আইয়ে...

স্মৃতিবিথার

December 13, 2013


মাঝে মাঝে কি সব অদ্ভুত স্মৃতি ফিরে ফিরে আসে। আজ সন্ধ্যের বাসে বাড়ি ফিরে আসছিলাম। ফাঁকা বাস, ফাঁকা রাস্তা । খোলা রাস্তায় বয়ে যাচ্ছে হু হু হাওয়া। এয়ারপোর্টের লাইটগুলো জ্বলছিল, নিভছিল। আর কি অসাধারণ বাস, পুরনো হিন্দি সিনেমার গান বাজাচ্ছিল মৃদু স্বরে।
হঠাৎ একটা গান বাজতে শুরু করল " চল , চল , মেরে হাতি , ও মেরে সাথি,...... চল ইয়ার ,ধাক্কা মার"।

এই একটা গান আমাকে সেই কোন ছোটোবেলায় টেনে নিয়ে গেলো। আমাদের সেই ছোটবেলায় সাকুল্যে দুটো টিভি চ্যানেল ছিল। শনিবার করে সন্ধ্যে বেলায় হিন্দি সিনেমা হতো । আর তার পূর্বাভাস পাওয়া যেত সেদিনের খবরের কাগজে।

আমি তখন শুভো দাদার কাছে আঁকা শিখতাম, ইস্কুলেও যাই না। আর বাবার কাছে শুভো দাদা বাংলা পড়তো। উচ্চ-মাধ্যমিকের বাংলা। শুভোদাদার হরেক রকম গল্পের বই ছিল। শুভো দাদা তেল রঙে নানারকম ছবি আঁকত। সেই লোভে লোভে আমিও বাবার সঙ্গে যেতাম।

শনিবার করে শুভো দাদা আসতো আমাদের বাড়ী। আমায় আঁকা শেখাতে। রোজ খানিকটা আঁকার পরে আমাকে "সিনারি" আঁকতে দিতেই হতো। সন্ধ্যের সিনারি। তাতে সুজ্জি ডুবে যেতো, পাখিরা ঘরে ফিরত, বুড়ো বট গাছের কোটোরে উঁকি দিত পেঁচা আর পেঁচার ছানা।আর তরমুজের খেতে গোটা সংসার নিয়ে নেমে আসতো খরগোশেরা।

এরম এক শনিবার বাড়িতে মা ছিলেন না, আর কাগজে দিয়েছিলো সেই সন্ধ্যায় "হাতি মেরে সাথি" সিনেমা টা আছে। সারা সন্ধ্যে আমরা খুব সাহস করে টিভি খুলে অপেক্ষা করেছিলাম ।( কারণ তখন হিন্দি সিনেমা দেখা ইন্ডিয়ান পেনাল কোডে অপরাধপ্রতিম ছিল)।

কিন্তু সেদিন কেন কে জানে সিনেমাটা দেয়নি টিভিতে। বহুদিন আকুলতা নিয়ে অপেক্ষা করেছিলাম সিনেমাটা দেখার জন্যে। যখন দেখেছিলাম বড্ড বোকা বোকা লেগেছিল । আমি অনেকদিন আর ছবি আঁকি না। শুভোদাদার কাছে আঁকা শেখার কথাও ভুলেই গেছিলাম। মনে পড়লো কালো আর্টপেপারে সাদা রঙে অসম্ভব সুন্দর একটা মেয়ের পোর্ট্রেট এঁকেছিল শুভোদাদা। তারপর আঁকা ছেড়ে দিয়ে ব্যাঙ্গালোরে ফিজিওথেরাপি পড়তে চলে গেছিলো।

এখন শুভোদাদার মস্ত চেম্বার। আজকে সন্ধ্যেয় হঠাৎ ইচ্ছে করল জানতে , রঙ দিয়ে ম্যাজিক দেখানো শুভোদাদা অবনীন্দ্রনাথ , গগনেন্দ্রনাথের ছবি আঁকার গল্প গুলো ভুলে গ্যাছে কিনা...

আমাদের কত সব খুচরো চোদ্দ-আনা যে এভাবে পড়ে হারিয়ে যায়... কে তার হিসেব রাখে...
 — at এই হেমন্তের যত অশ্রুজল , আমি এবার নামিয়ে দেবো তোমার পায়...

কোজাগর

সব থেকে সুন্দর আর পরিষ্কার জোচ্ছনা হয় আশ্বিন মাসে। চরাচর ভাসানো জ্যোচ্ছনা।

আজ মায়ের সঙ্গে নেমন্তন্ন খেতে গেছিলাম,খেয়ে দেয়ে গলি-রাস্তা হেঁটে এলাম বাড়িতে।কোন রকমে চাঁদের আলো একটুখানি এসে পড়েছে গলির মধ্যে। দমদমের ঘরবাড়ি গুলো বড় নিষ্ঠুর, চাঁদকে আড়াল করে আকাশ ছুঁয়েছে।ছাতিম ফুলের গন্ধ পেতে গেলে যেতে হবে সেই কদমতলা ব্যাঙ্কের কাছে।

হাঁটতে হাঁটতে কত সব পুরনো কথা মনে পড়ল।আমাদের বারাসাতের বাড়িতে থাকতে প্রতি লক্ষ্মী পুজোতে পাপুদের বাড়িতে আমাদের নেমন্তন্ন হত। আমি , মা , পিসি, পাশের বাড়ির কাকিমা নেমন্তন্ন খেয়ে ফিরতাম। খিচুড়ী, লাবড়া , পায়েস, আলোচাল, কাটা ফলের গন্ধের সাথে মিশে থাকা ধুপ-ধুনো আর গাঁদা ফুলের গন্ধ আমাদের অনেকক্ষণ আসতো পিছু পিছু ।

হঠাৎ করে লোডশেডিং হয়ে গেলে দেখতাম লক্ষ্মীর পা আর ধানের ছড়ার পাশে লুটিয়ে আছে জ্যোচ্ছনা।বাধানো ইঁটের রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতাম যখন , খালি মাঠের উপর ঘন হয়ে কুয়াশা নামতো, দুধের মত জোচ্ছনার ঢল, আর আমাদের ছাতিম গাছটা গন্ধ উজাড় করে দিত।

দূর থেকে ভেসে আসা উলু আর শঙ্খ ধ্বনি মনে হত যেন স্বপ্নের এক্সটেনশন। ছাদের পাশের নারকেলগাছের পাতা গুলো রুপোর মত ঝকঝক করত, ডানা ঝাপ্টে উড়ে এসে বসতো মস্ত বড় সাদা লক্ষ্মী পেঁচা।

আর আমি দিব্যি জানতাম , এই জ্যোচ্ছনা জমেই পরী হয়। আমি বাড়িতে নেই,কিন্তু কোজাগরীর আলোয় তৈরী হওয়া পরীটা নিশ্চয়ই খেলে বেড়াচ্ছে আমার প্রিয় ছাদটায়।
— playing কোজাগরী... at অলীক পেন্সিলে...

জুলাইয়ের রেনকোট

september 27, 2013

আজ কোটরা গেছিলাম।সকালে প্রচন্ড রোদ, ছিলো ভয়াবহ মন-খারাপ।দত্তপুকুর লোকালে মারামারি সঙ্গী করে নেমেছি খাঁ খাঁ প্ল্যাটফর্মে। তারপর লাল্টুদার গাড়ি চড়ে সোজা গন্তব্যে।

চোখ পুড়ে যাচ্ছিলো , মন ও অবশ । তিনটের সময় যখন বেরিয়েছি , দেখি আকাশে নীল মেঘ, তার উপর দিয়ে ধূসর রঙের তুলোর মত মেঘের ছানা। একটা অদ্ভুত হাওয়া দিচ্ছিলো। রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজের টুকরো, শালপাতা, বিস্কুটের খালি প্যাকেট উড়েযাচ্ছিলো সেই হাওয়ায়। কুন্ডলি পাকিয়ে উড়ছিল রাস্তার ধারের ধুলোরা।

সামনেই একটা বন্ধ সাইকেলের দোকান।অল্প একটু বাঁধানো বসার জায়গা।দুটো ছোট্ট ছাগলছানা শিং বাঁধিয়ে লড়াই লড়াই খেলছে।

রাস্তায় পায়চারি করছিলাম।ছোট্ট ছোট্ট একদল স্কুলের ছেলে আমার পাশে দাঁড়িয়ে পড়ল। খুব উৎসাহী কণ্ঠে বলল, দেখ দেখ কেমন উড়ছে। আমিও আকাশে তাকিয়ে দেখি একঝাঁক শামখোল পাখি হাওয়ার বিপরীতে কেমন চক্র কেটে উড়ে যাচ্ছে, পিছিয়ে পড়া একেকটা পাখি প্রাণপণে ডানা আপসে উড়বার চেষ্টা করছে। চোখের বাইরে ওরা চলে যেতে একটা বাচ্চাকে ভারি ইর্‌রিলেভ্যান্ট প্রশ্ন করলাম...
-"আজ কত তারিখ রে?"
একটা ছেলে বলল -"২৭ শে সেপ্টেম্বর ,কাল ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন ছিল না?"

গাড়ি এসে গেলে ফিরতে শুরু করলাম,তখনো বৃষ্টি নামেনি, ঘন হয়ে মেঘের ছায়া এসে পড়েছে পাম্প-হাউস, লাল শাকের খেত, বন বাদাড়, পথের পাশের পুকুরে।
ভিজে হাওয়ায় একটা অদ্ভুত সরসর শব্দ হচ্ছিলো ধানের খেতে, যেন কাঁচের কাজ করা গুজরাটি ঘাগরা পরে ছুটে আসছে কোনো সুন্দরী মেয়ে। দুধারে ধান খেত, গাড়ি থামিয়ে বেশ কিছুক্ষণ শুনলাম ধানক্ষেতের গান।

তারপর বেশ ভিজে বাড়ি ফিরেছি,আসার পথে স্টেশনে দেখে এলাম মামন আর ওর বন্ধুরা কামদুনি-পার্ক্সট্রীট-বরুন বিশ্বাস হত্যার প্রতিবাদে সভা করছে।রাস্তায় আবার একটা ইর্‌রিলেভ্যান্ট কথা মনে হল, যদি বৃষ্টি নামে, ওরা ভিজে যাবে, পথনাটিকা করতে পারবে না।

এখন মোটামুটি রাত।আর কিছু নয় ভগবান, আজ রাতে ঘুমটুকু অন্ততঃ দিও, যেন কোন ইর্‌রিলেভ্যান্ট কথা মনে না পড়ে।
 — at অলীকপেন্সিলে...

Monday, July 28, 2014

রেলরোডার্স ল্যামেন্ট

September 9,2013



(১) “আমাদের মফঃস্বল শহরটার উপর থেকে কোনো এক্সপ্রেস ট্রেন যায় না।”

এইটুকু লিখবার পর আমি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। কলম চলতে চায় না আর।সত্যিই তো কি বা লেখার আছে?কি আছে এই শহরে? দুধারে পুরনো বাড়ির দল,রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। সকালে রেডিও বেজে ওঠে। “মানে না নয়ন কেন, ফিরে ফিরে চায়”।

শীতলাতলার বড় অশত্থ গাছটায় ছিটকে পড়ে সকালের রোদ। এবড়োখেবড়ো রাস্তায় ঘন্টি বাজিয়ে চলে যায় দুধ-ওয়ালা। মুদির দোকানে জটলা হয়। টাইমের কলে দাঁত মাজা,চান করা লোকেদের ভিড়। ঘোষালবাড়ির দরজার মাথায় গনেশের সামনে দুটো জবাফুল রাখা।   রমণীবাবু গলা খাকড়িয়ে রকে বসে আনন্দবাজার পড়েন।  নতুন কোন গল্প নেই, আছে শুধু বিষাদ যাপন,যেমনটি বিষণ্ণ আমাদের রেল-ইস্টিশন।

(২) রোজ রোজ নতুন কিছু ঘটে না বলে বোধহয় আমাদের ষ্টেশনটাও বড় সাদা-মাটা। মফঃস্বলী  ধুলোটেপনা নিয়ে পড়ে আছে। একটা দুটো কদমগাছ, সিমেন্টের বাঁধানো বসার জায়গা,নোংরা থাবায় কান-চুলকানো নেড়ির ছানা,ধোঁয়া ওঠা চায়ের দোকান, ফুলওয়ালী মাসিরা।কি ভীষণ ঘরোয়া, কি ভীষণ মন খারাপ,যখন রোজ আমি এই ষ্টেশনটা ছেড়ে যাই আটটা বাইশের লোকালে। অনিবার্য কবিতা মনে পড়ে। “সেকি জানিত না যত বড় রাজধানী, তত বিখ্যাত নয় এ হৃদয়পুর”।

আমাদের ষ্টেশনটার নাম হৃদয়পুর। এ আশ্চর্য নাম, সমস্ত ভালবাসা নিয়ে ছলকে ওঠে। তবু কোনো এক্সপ্রেস ট্রেন আমাদের ষ্টেশনটার উপর দিয়ে যায় না। ট্রেনগুলো জানতেই পারে না একগাদা মায়া নিয়ে কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায় দূরপাল্লার গাড়ির জন্যে অপেক্ষা করে আছে একটা আশ্চর্য ষ্টেশন।

(৩) আকাশটা এখন দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায়,পুজো আসছে। গত কদিন যে কি বৃষ্টি ,কি বৃষ্টি গেলো। ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে আমি দিব্যি বুঝে যাচ্ছিলাম নিস্তব্ধ জলস্রোতে কি ভাবে ভরে উঠছে মাঠ ঘাট নয়ানজুলি। আকাশে মন্থরগামী জলভারাবনত মেঘ।যার ফাঁকে উকি দেয় গাঢ় নীল, শারদীয় পূর্বাভাস। বামনগাছি ষ্টেশনটা আসার আগেই আমি উঠে গিয়ে উল্টো দিকের দরজায় দাঁড়াই, হু হু হাওয়া এসে লাগে চোখে মুখে।আমি দেখি লকলকে লাউ-লতাওয়ালা লাইনের ধারের ঘর ছাপিয়ে জল বয়ে যাচ্ছে ট্রেনের সমান্তরালে। শিরশিরে হয়ে উঠছে জলি ধানের শীষ, আরো জমাট বাঁধছে দীঘল পাট গাছেরা, কেঁপে উঠছে শামখোল আর সারসের ডানায়।

লাইনের পাশে নয়ানজুলিতে শাপলা কুঁড়ি এসেছে। ঠিক তখনই বাদুলে হাওয়ায় দেবীপুর সঙ্ঘশ্রীর পলিথিনের পর্দা উড়ে যায়, বিষণ্ণ দাঁড়িয়ে থাকে দেবীর সংসার, পুত্র-কন্যা সহ। এক মেটে। যেন অন্নহীন বস্ত্রহীন বানভাসি মা।

(৪)  
ট্রেনের সঙ্গে চলতে থাকে চিত্রাবলী। একি রকম ঝম্‌ঝম্‌ শব্দে স্মৃতিরাও ছুটে আসে।ছেলেবেলা পেরিয়ে আসে হাওয়া, রোদ আর মেঘের সরগম। পুরনো স্মৃতি মানে সতত শীতকাল। হাড়মজ্জা কেঁপে ওঠে দিনগুলো চলে গ্যাছে বলে। ফিকে হয়ে যায় আসন্ন উৎসব ও পূজাবার্ষিকীর রঙবাহার। মনে পড়ে চলে যাওয়া দিব্য দিনরাশি। ঘাসে শুয়ে থাকা লেবু রঙা রোদ,গার্লস স্কুল। কি ভীষণ অপেক্ষা আর সাধনায় পাওয়া পুজোবার্ষিকী। যেন প্রবাস থেকে ফিরে এল প্রিয়জনেরা। সাইকেল রাখার জায়গাটায় কাকাবাবু আর সন্তু নতুন রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। অরণ্যদেব সোনাবেলার তটভূমিতে একলা দাঁড়িয়ে থাকেন। স্কুল-ব্যাগে লুকিয়ে থাকে পঞ্চ-পাণ্ডব আর পঞ্চু কুকুর। অর্জুন তো ইস্কুলের পথে হেঁটে যায়। আর আমি ওদিকে পেরিয়ে যাই শালবনের ছায়ায় ঘুমন্ত হাঁসের দল, বাড়ির দিকে ছুট লাগানো শামলা কানের ধলা কুকুর। এভাবে এসব গল্পের কোন শেষই আমার দেখা হয় না। নির্দিষ্ট গন্তব্য এলে আমি নেমে পড়ি অস্তিত্বের দিকে। ছেলেবেলা হারিয়ে যাওয়া বাচ্চার মত অযত্নে পড়ে থাকে ট্রেনের কামরায়।   

(৫) সন্ধ্যের ট্রেনে আজকাল প্রায়ই দেখি লাল-কালো ফুল ছাপ জামা পরা একটা মেয়ে কোলে একটা না-খেতে পাওয়া বাচ্চা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কোনো ষ্টেশন এলেই উদগ্র আগ্রহে গলা বাড়িয়ে কি যেন খোঁজে । নিত্যযাত্রী হাওয়া-বিলাসিনীরা গাল দেন। সরে বসতে পারো না?একটু দরজার ধারে দাঁড়াবার উপায় নেই। মেয়েটি শুধু কেঁদে চলে ষ্টেশনের দিকে তাকিয়ে।

ওর লাইনের ধারের ঘর থেকে ছ’বছরের বাচ্চাটি বেরিয়ে গিয়ে আর ফেরেনি। মা তাই খুঁজতে বেড়িয়েছে। আহা, ও ট্রেন দেখতে বড়ো ভালোবাসতো। কি জানি কোন ষ্টেশনে ট্রেন দেখতে গিয়ে আর ঘরে ফেরার কথা মনে নেই। মা তাই খুঁজে যায়, রোজ রোজ। প্রতিদিন। হু হু হাওয়ার সাথে ছেলে হারানো মায়ের উৎকন্ঠা ঘিরে ধরে আমায়। মনে পড়ে অনেক দিন আগে সায়নী নামের একটা ছোট্ট মেয়ে তার খাতার পিছনে লিখে রেখেছিল “not a shirt on my back, not a penny to my name Lord  I can’t go a- home, this a way, this a way”...  তারপর কি হয়েছিলো সেই মেয়েটার,আমার আর মনে পড়ে না।তাই বাকিটুকু আমি গাইতে থাকি হাওয়ায়।যে হাওয়া নাকি অতীতের।যে হাওয়া সর্বত্র বয়ে যাচ্ছে আকাশের নীচে।
“lord I m one lord I m two lord I m three lord I m four lord I m five hundred miles form my home”.... ঘরে ফেরার পথ কি সুদূর।সাগর-পাহাড়-জ্যোছ্‌না ডিঙিয়ে যখন ষ্টেশনে এসে নামি,দেখি আমার পিছু পিছু এসেছে ঘর-পালানোর যাবার লোভ।

(৬)

জংশন ষ্টেশনটায় একেকদিন সন্ধ্যের সময় দাঁড়িয়ে ট্রেন দেখি, ঠাকুরনগর লোকাল, হাসনাবাদ বারোবগি, প্রিন্সেপ-ঘাট সার্কুলার । একটা লোক পায়েসের গন্ধওলা গাছ বিক্কিরি করে। আলোজ্বলা চায়না লাটিম। কাগজের টিয়ার ঝাঁক। বার্মা কলোনির বাড়ি থেকে যাকে এখানে ফেলে গ্যাছে,সেই দিদিমা রোজ এই সময় গুনগুনিয়ে কাঁদে।আর নৈমিত্তিক সঙেদের এই বোম্বাচাকে হঠাৎ চোখে পড়ে যায় পাগল আর ভিখারিনীর সংসার।
ছেঁড়া ফ্লেক্সের টুকরো দিয়ে তৈরি আচ্ছাদন। সুগৃহিণীর নৈপুণ্যে ভিখারিনী ভাঙা থালায় বেড়ে দেয় আস্তাকুঁড় ঘেটে আনা খাবারের শেষ, দোকানীদের দান।আগ্রহে থালাটাকে আঁকড়ে ধরে পাগল। খেতে থাকে নিবিড় মনযোগে।

ছোটবেলায় আমরা সব্বাই ভাবতাম শারুকের সঙ্গে কাজলকে হেব্বি মানায়। কিন্তু ওদের কোনদিন বিয়ে হবেনা। কারণ কাজলের ভালবাসা অজয় দেবগণের সাথে। আমাদের কিছু মফস্বঃলী দুঃখ হত তখন। অপ্রাপণীয়কে রিজেকশনের দুঃখ। সেই দুঃখ আজকাল ভারী হয়ে আসে সন্ধ্যের ষ্টেশনে। তার কিছু সঙ্গে করে আনি। ঘরে ফিরে কম্পুটারে একলা শহরে একলা মেয়েকে নিয়ে খেলতে থাকি রাত। আর ষ্টেশনে সি.পি.আই.এম.এলের প্রকাশ্য সম্মেলনের দেওয়াল লিখনে পিঠ দিয়ে বসে থাকে পাগল ও ভিখারিনী। পাগলের সামনে ভাতের থালা,দুর্বোধ্য ভাষায় আদর।ভিখারিনী হাতে ধরে রেখেছে অস্ত্র আঁকা লালপতাকা,তারও চোখে দুস্পাঠ্য দাবী। কে জানে, একে হয়ত ভালোবাসা বলে। কিংবা বিপ্লব, যা জমে উঠে একদিন বিস্ফোরণ হবে।

(৭)
‘দিদিভাই, আমার প্রেশার আর সুগার, তোমরা পয়সা দিলে তবে ওষুধ কিনবো”।

এমত বলে অশ্রুকণা দত্ত , উঠে আসেন ডাউন হাসনাবাদ লোকালে।হাই পাওয়ার চশমা চোখে, পরনে মিলের শাড়ি ।হাতে থলি, রঙচটা ছেঁড়া কালো ব্লাউজ। সীটের কোণা ধরে ধাতস্থ হন তিনি। তারপর হাত মুঠো করে বলতে থাকেন “বল বীর,চির উন্নত মম শির”।

একের পর এক রবি ঠাকুর, সুকান্ত,শক্তি চট্টোপাধ্যায় হয়ে  জয় গোস্বামীতে শেষ হয় ভ্রমণ। আমরা কেউ বলি দিদা বীরপুরুষটা বল না,কেউ বলি অবনী বাড়ি আছো। সব কবিতার শেষে দিদা আমাদের বলেন “তোমরা পয়সা দিলে তবে ওষুধ কিনবো”।

অপদার্থ স্বামীটি মরে গিয়ে বাঁচিয়েছেন,মেয়েকে রোজ দুবেলা জামাই মেরে ধামসে দেয়। আমাদের ট্রেনতুতো অশ্রুকণা দিদা  সারা জীবন চোখের জলের চাষ করেছেন।বৃথা গ্যাছে বেথুন স্কুলে পড়া। মেয়ে জন্ম যে কত ছার বুঝে গ্যাছেন তিনি। তবু মেয়ে কামরার ভিড়ে কালশিটে, চোখের জল, মেয়ে বলে নিত্য অপমানের সব দাগ লুকিয়ে শুনতে পায় দূরাগত কণ্ঠস্বরে বৃদ্ধা কেমন বলে চলেন- “নিজেরে আজ কহ যে, ভালো মন্দ যাহাই আসুক, সত্য রে লও সহজে”।



(৮)
ঝমঝম শব্দে সরু খালটা পেরোলেই মনে হয় যেন নদী পেরোচ্ছি। দরজায় দাঁড়িয়ে দেখতে পাই অনেক নীচে ঘোলা জল বয়ে যাচ্ছে । দু-একটা কচুরিপানার ঝাঁক। পায়ে হাঁটা ব্রিজের থামে আটকে থাকে গত বছরের বিসর্জনের খড়কুটো। ব্রিজের উপরে সাইকেল হাতে মগ্ন থাকে কিশোর-কিশোরী। দূরে একটা ডিঙি নৌকো, শূন্য।একা একা ভেসে এসে আটকে আছে কেশর পানার দামে। আকাশে হঠাৎ মেঘ করে আসে।দিগন্তে যেখানে বাঁক নিয়েছে নোয়াই খাল,সেখানে ঘন হয়ে আসে ছায়া,ধুলিয়া মল্লারের মত। বহুদূর অবধি এই খালটা এসেছে রেল লাইনের সাথে সাথে। উঁচু লাইনের ঢাল খাড়া নেমে গ্যাছে। তার ধারে ধারে কদমের বন। বর্ষার শুরুতে দেখেছি ছোট্ট ছোট্ট বলের মত সবুজ রঙের ফুলের কুঁড়ি। আর এখন বর্ষার শেষে পুটুস ঝোপে কিছু কিছু হলদে গোলাপী ফুল টিকে আছে। নীচে ,অনেক নীচে খাল এখন জল টইটুম্বুর। ধারে ধারে গ্রানাইটের বড় বড় শিলা। মেঘ কেটে রোদ পড়লে সোনা হয়ে যায় জল। একটা পাগলা-খ্যাঁচা লোক সারা দুপুর কোঁচ হাতে পাথরে পাথরে মাছ ধরে বেড়ায়।আশে পাশে দুয়েকটা বাঁশের খুঁটিতে মাছরাঙাও এসে বসে শিকারের আশায়,পাথরে পাথরে লাফিয়ে যায় চঞ্চল ছাতারে।  মনেই হয় না একটা গোটা শহরের বর্জ্য, ময়লা জল সারা বছর একা একা বয়ে নিয়ে যায় এই খালটা। রোদ পড়ে আসা শেষ বর্ষার বিকেলে এই গিটার শহরের ও একমাত্র “নদী” ।

(৯)
আমাদের শহরের একমাত্র শিল্প গিটার। ঘরের উঠোনে উঠোনে শুকায় কাঠামো। কোথাও বেজে ওঠে সূক্ষ্ম তারের রণন। কিন্তু দিনের আলোয় দেখি আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে এই মফঃস্বল ।হয়ে উঠছে প্রগাঢ় শহর। শপিং মল,সিনেপ্লেক্স,বার আর ডিস্কো থেক। সস্তায় কফিপানের আড্ডা।আপনার হৃদয় তৃপ্ত করবে গহনা এমন। “ডোন্ট রিড ইট, জাস্ট ইট ইট” আইসক্রিম শপ ।                      
                   রাস্তা চওড়া হচ্ছে তাই কাটা পড়ছে এই মফঃস্বলের গর্ব যত কৃষ্ণচূড়া গাছ।ডাকবাংলো মোড়ের কাছে একটা নীল রঙা পুরোনো বাড়িতে এক ভদ্রলোক থাকতেন। কিঞ্চিৎ ক্ষ্যাপা। রাস্তার লোক পেলেই ধরে শোনাতেন স্ব-আবিষ্কৃত কৃষ্ণতত্ত্ব। কাল সেখানে দেখলাম বাড়িটা ভেঙে তানিশ্‌কের আলিসান বিপণি উঠেছে ।এখন এই ক্রমবর্ধমান শহরের ভিড়ে সেই পাগল মানুষটিকে কি ভাবে খুঁজে পাবো? কি ভাবে খুঁজে পাবো প্রখর রোদে ঝিলমিল ছায়া ?

                     বিকেলের আলো পড়ে এলে আধ-খানা নতুন আর আধ-খানা পুরনো শহর হেসে ওঠে।রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টে ময়লাটে আলো জ্বলে। ষ্টেশনে ভিড় আপ ট্রেন থামে। শান্‌দার এই শহরে এলে আজকাল আমার মনে হয় এ যেন অচেনা জনপদ, জানা নেই শোনা নেই হঠাৎ করে হারিয়ে গেছি যেন। তবু রাত্রি হলে রাস্তার মোড়ে এসে বসে গাইঘাটার মাসি, ডেকচির আড়াল থেকে খদ্দেরের হাতে তুলে দেয় নিষিদ্ধ সুধার প্যাকেট। পাথরে ঠোক্কর দিয়ে মাতাল বাড়ি ফেলে। সামনের রাস্তায় কে যেনো মাউথ অর্গানে বাজিয়ে যায়- “if you miss the train  I m on you will know that I have gone, you can hear the whistle blow, a hundred miles.”
তুমি তো জান আমি চলে গেছি,তুমি তো জানো মফস্বঃল।


(১০)
    “আদম সুমারী ক্লান্ত নিরুত্তাপ রাতের হোটেলে     সব চাবি ঘরে আসে প্যাকেটে প্যাকেটে তাস কিংবা ত্রিকোণ     থাকে শুধু অন্ধকার ,মুখোমুখি বসিবার ব্যর্থ আয়োজন”।

 ক্লান্ত রাতের ট্রেন কারশেডে ফিরে যায়।সেই ট্রেনে ঝুলতে ঝুলতে চলে যায় উলি-ঝুলি পাগল। সস্তায় জ্বেন তাড়াইবার উপায়। স্ত্রীকে বশীকরণ। সুলভে সিরিয়ালে অভিনয়। গোপনে মদ ছাড়াচ্ছে কল্যানীর মানব ফাউন্ডেশন। এর ঠিক কোল ঘেঁষে দেওয়ালে লেখা থাকে উত্তপ্ত হৃদয়ের পাশে, রাজু লাভস্‌ সোনু।এরম সব বিচিত্র ঘৃণা-ভালবাসার কথা নিয়ে, আশ্চর্য সব বিজ্ঞাপন বুকে নিয়ে রাতের ট্রেনগুলো ঘুমোতে যায়।

যীশু বলে গ্যাছেন, তিনি খুঁজে পেয়েছেন মেষেদের প্রকৃত চারণভূমি। আমাদের হলুদ-সবুজ চেককাটা চাদরে দিদির মেয়ে এঁকে রেখে গ্যাছে  স্কুলের ব্যাগ কাঁধে দু-বিনুনি বাচ্চা মেয়ে, ঘুড়ি হাতে একলা ছেলে। বাবা রোজ রাতে ক্লান্ত হয়ে সেই বাচ্চা মেয়েটার পাশে শুয়ে মাথায় হাত রাখেন,ফিস্‌ফিস করে ডাকেন “দিদিভাই”।

 খস্‌খস্‌ শব্দে বাঁশপাতা ঝরে পড়ে। কচুপাতায়, পেয়ারাপাতায় শিশির জমে ঘুমহীন। বুনোফুলের গন্ধ, ওষধি গন্ধ ভারী হয়ে ওঠে।
এই ভাবে দিব্য এক রাত নামে আমাদের মফঃস্বলে। পেঁচাদের ডাকে সেই রাত গাঢ় হয়, একেকটা রাত্রিকালীন শীত পেরিয়ে চলে যায় আরেকটা ভোর, আরেকটা জীবন্ত বিষাদের দিকে।


( ব্যবহৃত কবিতাগুলি রবি ঠাকুর , শক্তি চট্টপাধ্যায়, অচ্যুত মণ্ডল ও the journeymen এর ।)    

দেখ সখী বরষণ

August 9, 2013


কাল বাইশে শ্রাবণ ছিলো।সকাল থেকে তুমুল বৃষ্টি হয়েছে।সকালবেলায় বারান্দায় বেরিয়ে দেখি রথের মেলা থেকে কেনা আমাদের জুঁই-লতায় ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি জমে আছে। খুশিতে মাথা দোলাচ্ছে লক্‌লকে কুমড়োলতা , আর সামনের বাড়ির কামিনীগাছে কোত্থেকে যেনো হারিয়ে যাওয়া ফুল গুলো ফিরে এসেছে।

শেষ শ্রাবণের বর্ষা তার সমস্ত বিক্রম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে আমাদের গলিতে।

আমাকে বেরোতে হল ন'টায়। রামপ্রসাদের রিকশা চড়ে।তারপর ট্রেন। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে হাওয়া আর বৃষ্টি খেতে খেতে গিয়ে নামলাম বামনগাছিতে ।

গাড়ির জন্যে দাঁড়িয়ে আছি,একটা বাসন দোকানের সামনে । ঝিরঝিরে বৃষ্টি তখনো হয়ে চলছে। হঠাৎ দেখি সামনের নারকেল গাছ গুলোয় কি যেন নড়ে উঠছে। চশমাটা চোখে দিলাম,দেখি গাছের উপরে বৃষ্টি ভিজে ক্লান্ত হওয়া বকেদের একটা গোটা কলোনি। গ্রে হেরন,পন্দ হেরন,নাইট হেরন, লেসার করমোরান্ট। মাঝে মাঝেই ওরা ভেজা ডানা ঝাপ্টে নিচ্ছে।

মনটা আনন্দে কিরম করে উঠলো। আহা, সেই ছোটোবেলায় চন্দন্দা'দের বাগানের তেজপাতা গাছে এক জোড়া ওয়াক্‌ মানে নাইট হেরন থাকতো। রাতের বেলা "ওয়াক্‌ , ওয়াক " ডেকে চাঁদের উপর দিয়ে উড়ে যেতো,ভোরবেলায় ফিরে আসতো গাছ-বাড়িতে।

একদিন ভোরে ওয়াক্‌রা আর বাড়ি ফিরলো না।আমরা বেশ কদিন অপেক্ষা করলাম,তারপর ক'বছর পরে চলে গেলাম নতুন বাড়িতে।

আমার সেই ছেলেবেলার ওয়াকরাই যেনো কাল বৃষ্টি দিনের নারকেল গাছে উড়ে এলো। আহা, এমনি হঠাৎ হঠাৎ কত কিছুই যে ফিরে পাওয়া হয়।

এমনি হঠাৎ...
 — at ভিজে যাওয়া মেঘ ডানা...ভিজে যাওয়া এই মন আনমনা.

তত বিখ্যাত নয় এ হৃদয়পুর

আজ সকালে ঠেলাঠেলি করে গোবোরডাঙ্গা লোকালে উঠে পড়লাম। উৎকট গরম। মাসিদের বকর বকর।হঠাৎ করে হৃদয়পুর পেরতেই এক ঝলক ঠাণ্ডা হাওয়া। আকাশটাও একটু ছায়া ছায়া হয়ে গেল। ৫ টাকায় ৩টে মুসুম্বি লেবুর সাথে কামরায় উঠে পড়লো সেই পিঠ কুঁজো বাঁশিওয়ালা। বাজাতে শুরু করলো অজানা সমস্ত সুর।

আকাশে মেঘ তখন আরো গাঢ় হয়েছে। গাছগুলো দুলে চলেছে কোনো অপ্রকাশ্য আনন্দে। আমি যখন আমার নির্দিষ্ট ষ্টেশনে নামলাম,তখনও সে বাজিয়ে চলেছে "শাওনরাতে যদি স্মরণে আসে মোরে/ বাহিরে ঝড় বহে,নয়নে বারি ঝরে"।

রাস্তায় আর বৃষ্টি আসেনি। সকাল সকাল বাড়ী ফিরেছি আজ।জানলার কাছে মাথা রেখে ঘুমোচ্ছিলাম। হঠাৎ চুলে জলের ছিটে লাগলো। বাইরে ঝুম বৃষ্টি।
সন্ধ্যে থেকে পড়ছি যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল, সঙ্গে সুমনের গান।বাইরে ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে,হাওয়া দিচ্ছে।
বৃষ্টি উদ্‌যাপন সারা রাত।
 — at  তত বিখ্যাত নয় এ হৃদয়পুর...