December 13, 2013
মাঝে মাঝে কি সব অদ্ভুত স্মৃতি ফিরে ফিরে আসে। আজ সন্ধ্যের বাসে বাড়ি ফিরে আসছিলাম। ফাঁকা বাস, ফাঁকা রাস্তা । খোলা রাস্তায় বয়ে যাচ্ছে হু হু হাওয়া। এয়ারপোর্টের লাইটগুলো জ্বলছিল, নিভছিল। আর কি অসাধারণ বাস, পুরনো হিন্দি সিনেমার গান বাজাচ্ছিল মৃদু স্বরে।
হঠাৎ একটা গান বাজতে শুরু করল " চল , চল , মেরে হাতি , ও মেরে সাথি,...... চল ইয়ার ,ধাক্কা মার"।
এই একটা গান আমাকে সেই কোন ছোটোবেলায় টেনে নিয়ে গেলো। আমাদের সেই ছোটবেলায় সাকুল্যে দুটো টিভি চ্যানেল ছিল। শনিবার করে সন্ধ্যে বেলায় হিন্দি সিনেমা হতো । আর তার পূর্বাভাস পাওয়া যেত সেদিনের খবরের কাগজে।
আমি তখন শুভো দাদার কাছে আঁকা শিখতাম, ইস্কুলেও যাই না। আর বাবার কাছে শুভো দাদা বাংলা পড়তো। উচ্চ-মাধ্যমিকের বাংলা। শুভোদাদার হরেক রকম গল্পের বই ছিল। শুভো দাদা তেল রঙে নানারকম ছবি আঁকত। সেই লোভে লোভে আমিও বাবার সঙ্গে যেতাম।
শনিবার করে শুভো দাদা আসতো আমাদের বাড়ী। আমায় আঁকা শেখাতে। রোজ খানিকটা আঁকার পরে আমাকে "সিনারি" আঁকতে দিতেই হতো। সন্ধ্যের সিনারি। তাতে সুজ্জি ডুবে যেতো, পাখিরা ঘরে ফিরত, বুড়ো বট গাছের কোটোরে উঁকি দিত পেঁচা আর পেঁচার ছানা।আর তরমুজের খেতে গোটা সংসার নিয়ে নেমে আসতো খরগোশেরা।
এরম এক শনিবার বাড়িতে মা ছিলেন না, আর কাগজে দিয়েছিলো সেই সন্ধ্যায় "হাতি মেরে সাথি" সিনেমা টা আছে। সারা সন্ধ্যে আমরা খুব সাহস করে টিভি খুলে অপেক্ষা করেছিলাম ।( কারণ তখন হিন্দি সিনেমা দেখা ইন্ডিয়ান পেনাল কোডে অপরাধপ্রতিম ছিল)।
কিন্তু সেদিন কেন কে জানে সিনেমাটা দেয়নি টিভিতে। বহুদিন আকুলতা নিয়ে অপেক্ষা করেছিলাম সিনেমাটা দেখার জন্যে। যখন দেখেছিলাম বড্ড বোকা বোকা লেগেছিল । আমি অনেকদিন আর ছবি আঁকি না। শুভোদাদার কাছে আঁকা শেখার কথাও ভুলেই গেছিলাম। মনে পড়লো কালো আর্টপেপারে সাদা রঙে অসম্ভব সুন্দর একটা মেয়ের পোর্ট্রেট এঁকেছিল শুভোদাদা। তারপর আঁকা ছেড়ে দিয়ে ব্যাঙ্গালোরে ফিজিওথেরাপি পড়তে চলে গেছিলো।
এখন শুভোদাদার মস্ত চেম্বার। আজকে সন্ধ্যেয় হঠাৎ ইচ্ছে করল জানতে , রঙ দিয়ে ম্যাজিক দেখানো শুভোদাদা অবনীন্দ্রনাথ , গগনেন্দ্রনাথের ছবি আঁকার গল্প গুলো ভুলে গ্যাছে কিনা...
আমাদের কত সব খুচরো চোদ্দ-আনা যে এভাবে পড়ে হারিয়ে যায়... কে তার হিসেব রাখে... — at এই হেমন্তের যত অশ্রুজল , আমি এবার নামিয়ে দেবো তোমার পায়...
মাঝে মাঝে কি সব অদ্ভুত স্মৃতি ফিরে ফিরে আসে। আজ সন্ধ্যের বাসে বাড়ি ফিরে আসছিলাম। ফাঁকা বাস, ফাঁকা রাস্তা । খোলা রাস্তায় বয়ে যাচ্ছে হু হু হাওয়া। এয়ারপোর্টের লাইটগুলো জ্বলছিল, নিভছিল। আর কি অসাধারণ বাস, পুরনো হিন্দি সিনেমার গান বাজাচ্ছিল মৃদু স্বরে।
হঠাৎ একটা গান বাজতে শুরু করল " চল , চল , মেরে হাতি , ও মেরে সাথি,...... চল ইয়ার ,ধাক্কা মার"।
এই একটা গান আমাকে সেই কোন ছোটোবেলায় টেনে নিয়ে গেলো। আমাদের সেই ছোটবেলায় সাকুল্যে দুটো টিভি চ্যানেল ছিল। শনিবার করে সন্ধ্যে বেলায় হিন্দি সিনেমা হতো । আর তার পূর্বাভাস পাওয়া যেত সেদিনের খবরের কাগজে।
আমি তখন শুভো দাদার কাছে আঁকা শিখতাম, ইস্কুলেও যাই না। আর বাবার কাছে শুভো দাদা বাংলা পড়তো। উচ্চ-মাধ্যমিকের বাংলা। শুভোদাদার হরেক রকম গল্পের বই ছিল। শুভো দাদা তেল রঙে নানারকম ছবি আঁকত। সেই লোভে লোভে আমিও বাবার সঙ্গে যেতাম।
শনিবার করে শুভো দাদা আসতো আমাদের বাড়ী। আমায় আঁকা শেখাতে। রোজ খানিকটা আঁকার পরে আমাকে "সিনারি" আঁকতে দিতেই হতো। সন্ধ্যের সিনারি। তাতে সুজ্জি ডুবে যেতো, পাখিরা ঘরে ফিরত, বুড়ো বট গাছের কোটোরে উঁকি দিত পেঁচা আর পেঁচার ছানা।আর তরমুজের খেতে গোটা সংসার নিয়ে নেমে আসতো খরগোশেরা।
এরম এক শনিবার বাড়িতে মা ছিলেন না, আর কাগজে দিয়েছিলো সেই সন্ধ্যায় "হাতি মেরে সাথি" সিনেমা টা আছে। সারা সন্ধ্যে আমরা খুব সাহস করে টিভি খুলে অপেক্ষা করেছিলাম ।( কারণ তখন হিন্দি সিনেমা দেখা ইন্ডিয়ান পেনাল কোডে অপরাধপ্রতিম ছিল)।
কিন্তু সেদিন কেন কে জানে সিনেমাটা দেয়নি টিভিতে। বহুদিন আকুলতা নিয়ে অপেক্ষা করেছিলাম সিনেমাটা দেখার জন্যে। যখন দেখেছিলাম বড্ড বোকা বোকা লেগেছিল । আমি অনেকদিন আর ছবি আঁকি না। শুভোদাদার কাছে আঁকা শেখার কথাও ভুলেই গেছিলাম। মনে পড়লো কালো আর্টপেপারে সাদা রঙে অসম্ভব সুন্দর একটা মেয়ের পোর্ট্রেট এঁকেছিল শুভোদাদা। তারপর আঁকা ছেড়ে দিয়ে ব্যাঙ্গালোরে ফিজিওথেরাপি পড়তে চলে গেছিলো।
এখন শুভোদাদার মস্ত চেম্বার। আজকে সন্ধ্যেয় হঠাৎ ইচ্ছে করল জানতে , রঙ দিয়ে ম্যাজিক দেখানো শুভোদাদা অবনীন্দ্রনাথ , গগনেন্দ্রনাথের ছবি আঁকার গল্প গুলো ভুলে গ্যাছে কিনা...
আমাদের কত সব খুচরো চোদ্দ-আনা যে এভাবে পড়ে হারিয়ে যায়... কে তার হিসেব রাখে... — at এই হেমন্তের যত অশ্রুজল , আমি এবার নামিয়ে দেবো তোমার পায়...
No comments:
Post a Comment