september 27, 2013
আজ কোটরা গেছিলাম।সকালে প্রচন্ড রোদ, ছিলো ভয়াবহ মন-খারাপ।দত্তপুকুর লোকালে মারামারি সঙ্গী করে নেমেছি খাঁ খাঁ প্ল্যাটফর্মে। তারপর লাল্টুদার গাড়ি চড়ে সোজা গন্তব্যে।
চোখ পুড়ে যাচ্ছিলো , মন ও অবশ । তিনটের সময় যখন বেরিয়েছি , দেখি আকাশে নীল মেঘ, তার উপর দিয়ে ধূসর রঙের তুলোর মত মেঘের ছানা। একটা অদ্ভুত হাওয়া দিচ্ছিলো। রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজের টুকরো, শালপাতা, বিস্কুটের খালি প্যাকেট উড়েযাচ্ছিলো সেই হাওয়ায়। কুন্ডলি পাকিয়ে উড়ছিল রাস্তার ধারের ধুলোরা।
সামনেই একটা বন্ধ সাইকেলের দোকান।অল্প একটু বাঁধানো বসার জায়গা।দুটো ছোট্ট ছাগলছানা শিং বাঁধিয়ে লড়াই লড়াই খেলছে।
রাস্তায় পায়চারি করছিলাম।ছোট্ট ছোট্ট একদল স্কুলের ছেলে আমার পাশে দাঁড়িয়ে পড়ল। খুব উৎসাহী কণ্ঠে বলল, দেখ দেখ কেমন উড়ছে। আমিও আকাশে তাকিয়ে দেখি একঝাঁক শামখোল পাখি হাওয়ার বিপরীতে কেমন চক্র কেটে উড়ে যাচ্ছে, পিছিয়ে পড়া একেকটা পাখি প্রাণপণে ডানা আপসে উড়বার চেষ্টা করছে। চোখের বাইরে ওরা চলে যেতে একটা বাচ্চাকে ভারি ইর্রিলেভ্যান্ট প্রশ্ন করলাম...
-"আজ কত তারিখ রে?"
একটা ছেলে বলল -"২৭ শে সেপ্টেম্বর ,কাল ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন ছিল না?"
গাড়ি এসে গেলে ফিরতে শুরু করলাম,তখনো বৃষ্টি নামেনি, ঘন হয়ে মেঘের ছায়া এসে পড়েছে পাম্প-হাউস, লাল শাকের খেত, বন বাদাড়, পথের পাশের পুকুরে।
ভিজে হাওয়ায় একটা অদ্ভুত সরসর শব্দ হচ্ছিলো ধানের খেতে, যেন কাঁচের কাজ করা গুজরাটি ঘাগরা পরে ছুটে আসছে কোনো সুন্দরী মেয়ে। দুধারে ধান খেত, গাড়ি থামিয়ে বেশ কিছুক্ষণ শুনলাম ধানক্ষেতের গান।
তারপর বেশ ভিজে বাড়ি ফিরেছি,আসার পথে স্টেশনে দেখে এলাম মামন আর ওর বন্ধুরা কামদুনি-পার্ক্সট্রীট-বরুন বিশ্বাস হত্যার প্রতিবাদে সভা করছে।রাস্তায় আবার একটা ইর্রিলেভ্যান্ট কথা মনে হল, যদি বৃষ্টি নামে, ওরা ভিজে যাবে, পথনাটিকা করতে পারবে না।
এখন মোটামুটি রাত।আর কিছু নয় ভগবান, আজ রাতে ঘুমটুকু অন্ততঃ দিও, যেন কোন ইর্রিলেভ্যান্ট কথা মনে না পড়ে। — at অলীকপেন্সিলে...
No comments:
Post a Comment